আউটসোর্সিংয়ে সফলতা এবং কিছু প্রসঙ্গ

I never dreamed about success. I worked for it ” – sorry উক্তি টা আমার না। এইটা American famous woman entrepreneur “Estée Lauder” এর। অনেকেই এই উক্তির সাথে একমত হবেন না জানি, তারপর ও বলবো আমার পুরো লেখা মনোযোগ একবার পরুন, একমত না হয়ে পারবেন না।

estee lauder-wise-words

ইদানিং বাংলাদেশে খুব বেশি মাতামাতি হচ্ছে আউটসোর্সিং নিয়ে। রাতারাতি বড়লোক হবার বাহারি ও রকমারি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে মানুষকে আকৃষ্ট করার পায়তারায় মত্ত আছে একটি শ্রেনী। অনলাইনে আয় করার এইসব বাহারি বিজ্ঞাপনে আকৃষ্ট হয়ে প্রতারিতও হচ্ছেন অনেকে। কেউ কেউ আবার এই ক্ষেত্রটিকে ব্যাপক সমালোচিত এমএলএম ব্যাবসার সাথে গুলিয়ে ফেলছেন। বাস্তবে আসলে কি ? আউটসোর্সিং শব্দটি আমাদের দেশে যে খুব বেশি পরিচিত তা নয়, তবে অসাধু ব্যাবসায়ী আর চটকদার বিজ্ঞাপনের কল্যাণে শব্দটি এখন মানুষের মনে নানা কৌতুহলের জন্ম দিচ্ছে, এবং ইতিমধ্যে বাংলাদেশীদের কাছে অতি পরিচিত শব্দ হিসাবে সমাদৃত হচ্ছে। আবার কারো কারো কাছে নিন্দিত হচ্ছে। কিন্তু এমনটা হবার কথা ছিল না। এখন থেকে দশ বছর আগেও আমাদের দেশের মানুষ এই শব্দটির সাথে পরিচিত ছিল না। তখন যে আউটসোর্সিং এর কাজ হতনা তা নয়, কিন্তু এখনকার মত ছিল না। পরিবর্তনশীল এবং প্রতিযোগীতা মূলক বিশ্বায়নের এই সময়ে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে আর্থ-সামাজিক অস্থিরতার কারনে অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং অব্যবস্থাপনার কারনে বেকার সমস্যা ক্রমেই বাড়ছে। বাংলাদেশও এই পরিস্থিতির স্বীকার। যার ফলে বেকার যুবকদের পাশাপাশি স্বল্প আয়ের মানুষ জীবনের প্রয়োজনে বিকল্প আয়ের পথ খুজছে। এই সুযোগে আউটসোর্সিং শব্দটি বাংলাদেশের মানুষের মাঝে দ্রুত প্রসার লাভ করছে, এবং ভবিষ্যতে আরও করবে।

কিন্তু আসলে কি এই আউটসোর্সিং ব্যবস্থার মাধ্যমে এইসকল সমস্যার সমাধান সম্ভব ? এর সঠিক উত্তর হল পুরোপুরি না হলেও অনেকাংশেই সম্ভব। তবে এর পেছনে অনেকগুলি কিন্তু জড়িত ! যেমন আমাদের দেশে এখন হরহামেশাই শোনা যায় একটি কথা, সহজ উপায়ে অনলাইনে আয়। আমার কথা হল, এত সহজে যদি অনলাইনে কাড়ি কাড়ি ডলার/টাকা কামানো যেত তাহলে পৃথিবীর কোটি কোটি মানুষ স্রেফ টাকা উপার্যনের জন্য দিন রাত খাটা খাটুনি বন্ধ করে একখানা কম্পিউটার আর ইন্টারনেট কানেকশন নিয়ে যার যার ঘরে বসে যেত, আর ডলার আয় করত। কিন্তু বাস্তব চিত্রটা একটু ভিন্ন। আসলে আপনার যদি দক্ষতা থাকে তাহলে আউটসোর্সং সেক্টরে আপনি সফল হবেন। আউটসোর্সিং এর ভিন্নতাটুকু হল, এখানে কাজ করা এবং কাজ পাবার স্বাধীনতাটুকু আছে যা আপনি অন্য পেশায় পাবেন না। আর একটা পার্থক্য হল আপনার পরিশ্রমের সঠিক মূল্যায়ন এখানে পাবেন এবং তার জন্য উপযুক্ত সম্মানী পাবেন, অন্যান্য পেশায় যার জন্য প্রতিনিয়ত কর্তা ব্যাক্তিদের সাথে কর্মকর্তাদের মন কাষাকষি লেগেই থাকে, যা আউটসোর্সিং এ নেই। এক কথায় আউটসোর্সিং হল সঠিক কাজ করে সহজ উপায়ে আয় করার একটি মাধ্যম। যেখানে সফল হতে হলে আপনাকে প্রথমেই দক্ষতা অর্জন করতে হবে, এবং কাজ করার জন্য সঠিক প্লাটফর্মে আসতে হবে।

আগে জেনে নেই, আউটসোর্সিং তথা ফ্রিল্যান্সিং কি ? একটু সহজ ভাবে বললে, ইন্টারনেটের ব্যাবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিভিন্ন ধরনের কাজ করিয়ে নেয়। আর এই কাজ গুলো বণ্টন করার জন্য বিভিন্ন মার্কেটপ্লেস আছে । নিজ প্রতিষ্ঠানের বাইরে অন্য কাউকে দিয়ে এসব কাজ করানোকে আউটসোর্সিং বলে। ফ্রিল্যান্সিং শব্দের মূল অর্থ হল মুক্ত পেশা। অর্থাৎ মুক্তভাবে কাজ করে আয় করার পেশা। যারা আউটসোর্সিংয়ের কাজ করে দেন, তাঁদের ফ্রিল্যান্সার বলে।

সম্প্রতি ফ্রিল্যান্সিং বহুল আলোচিত বিষয়, কিন্তু কিছু অসাধু প্রতিষ্ঠান সাধারণ স্টুডেন্টদের লোভ দেখিয়ে নানা ভাবে টাকা হাতিয়ে নেয়, এতে সাধারণ স্টুডেন্টরা ব্যাপক বিপদে পড়ে, আমার কাছে অনেকেই এসে বলে, টাকা ধরা খেয়েছে সি পি এ মার্কেটিং (CPA MARKETING) শিখতে গিয়ে, আরো অনেকের একই অবস্থা হয়েছে, বিষয়গুলা জানতে পেড়ে খুব খারাপ লাগে, আবার রাগও আসে। যাইহোক প্রথমেই আমি নিম্নমানের কিছু প্রতিষ্ঠান নিয়ে আলোচনা করবো, যে প্রতিষ্ঠানগুলো ডাইরেক্ট বাটপারির সাথে জরিত, ফ্রিল্যান্সিং এর নামে টাকা নিয়ে থাকে, কাজের কাজ কিছুই শিখায় না, টাকা ইনকাম করে ধান্দা করে !!!!

GIF

কিছু কিছু প্রতিষ্ঠান আছে যারা সি পি এ মার্কেটিং এর নামে ডেটিং আর বেটিং অফার নিয়ে কাজ করে, ১০০% চিটার এরা, মানুষ কে হারাম কাজ শিখায়, অনেক টাকা ইনকাম হবে এমন লোভ দেখিয়ে ভর্তি করায়, বলে ২-৩ টা ক্লাস করলে ইনকাম এর ছড়াছড়ি, মানুষ আর নিজেকে ধরে রাখতে পারে না, তখন ভর্তি হয়, ধরা খেয়ে ফিরে আসে। এদের ক্লাসে ফেসবুক, টুইটারের ৪/৫ টা বেসিক ক্লাস ছাড়া কিছুই নাই। এরপর শুরু করে দেয় বিভিন্ন নগ্ন সাইটের মার্কেটিং। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের অবস্থা আরও ভয়াবহ । বেসিক বিষয়েও তাদের জ্ঞান শূন্যর কোঠায়। এসব ট্রেইনারদের অবস্থাও পাশের ভিডিওর মত…।

অনেক অ্যাড দেখবেন ফ্রিল্যান্সিং জব ৮০০০-২০০০০ টাকা স্যালারি, অথচ যে অ্যাড দিয়েছে, তার নিজের ইনকাম ও নাই, সে আবার জব দেয়, চলুন কি জব দেয়, আপনি যখন তাদের কাছে যাবেন তারা আপনার থেকে কোর্স করাবে বলে ৬০০০-৮০০০ টাকা নিবে, তার পরে বলবে আপনি যে ভাবে আসছেন অ্যাড দেখে সে রকম অ্যাড দেন একজন কে ভর্তি করতে পারলে ২০০০ টাকা পাবেন।

অনলাইন আরো কিছু অ্যাড দেখবেন কাজ দিবে, বা টীম হয়ে কাজ করতে চান, এই আরেক বড় বাটপার, তার এত দরদ কেন, তার কারণ আপনি তার আন্ডারে কাজ করবেন সে লাভবান হবে, অথবা তার রেফারেলে কাজ করবেন সে কমিশন পাবে। আবার অনেকে কোর্স করতে গিয়ে ধরা খায় , আবার ভিডিও দিবে বলে টাকা নিয়ে ব্লক মারে আরো কত কি !!!

অনলাইন কোর্স গুলা থেকে বিশেষভাবে সাবধানতা অবলম্বন করা উচিৎ, কে কোর্স করাচ্ছে, তার যোগ্যতা কতটুকু, তার পূর্বের ছাত্রদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করুন। এখন অনেকেই দুই লাইন শিখেই সস্তায় অনলাইন কোর্সের (ONLINE COURSE) ব্যবসা নিয়ে বসে পড়ে। শুধুমাত্র মোবাইলে, ফেসবুকে আলাপ করেই কিংবা লোভনীয়, চটকদার বিজ্ঞাপন দেখেও কোনও প্রকার আর্থিক লেনদেন করা ঠিক না। কারও সাথে কোনও আর্থিক লেনদেন করবার আগে অবশ্যই তাদের অফিসে যাবেন, বিস্তারিত আলোচনা করবেন, যে কোর্স করাবে (ট্রেইনার) তার সাথে আগে কথা বলুন। কোর্স গাউডলাইন ভালমত দেখে নিন।

** আপনি প্রতারিত হচ্ছেন কারণ আপনার লোভ বেশী — কোন কিছু না জেনে ৩-৪ টা ক্লাস করে ইনকাম করবেন, সে জন্য ভর্তি হয়েছেন, কিছু যে শিখতে হবে সেইটা আর খেয়াল নাই। আপনি কষ্ট করতে রাজি না, আপনি ভর্তি হয়েই ফ্রীলান্সার হতে চান। কষ্ট করে হালাল ভাবে ইনকাম করুন , সারাজীবন কাজ করে খেতে পারবেন।

** আপনি প্রতারিত হচ্ছেন কারণ অতি তাড়াতাড়ি বড়লোক হতে চান — আপনি হয়ত ভুলে গেছেন, ফ্রিল্যান্সিং কোন সাধারণ পেশা নয়, এই পেশায় মোটামুটি এক্সপার্ট না হলে ভালো ইনকাম করা যায় না।

** আপনি প্রতারিত হচ্ছেন কারণ শিখানোর আগে ১০০% ইনকাম করতে চান , তাই কিছু টাকা সেভ করার জন্য ভালো প্রতিষ্ঠানে যান নাই, তার কারণেও ধরা খেয়েছেন। কম টাকায় কোথায় ফ্রিল্যান্সিং শিখায় এই চিন্তা বাদ দেন।

যারা কোর্স করায় তারা যেভাবে চটকদার বিজ্ঞাপন দেন – সেভাবে লার্নার কোর্স ভ্যালু পায় না – এই টা একটা বড় সমস্যা। এটা ইউনিভার্সাল সমস্যা। আপনি যেকোন প্রোডাক্টের ক্ষেত্রেই এমন সমস্যা পাবেন, যেখানে মার্কেটিং আর রিয়েল ভ্যালু ম্যাচ করেনা। যেমনঃ খাবারের দোকানের বাইরের ব্যানারের ছবির সাথে ৯০% ক্ষেত্রে আসল খাবারের মিল থাকেনা। এক্ষেত্রে গ্রাহক/ক্রেতা সচেতন হয়ে একটু চেক করলেই হয়ে যায়। কিন্তু তার জন্য নূন্যতম ধারনা থাকতে হবে প্রোডাক্ট নিয়ে। কোর্স এর ক্ষেত্রে লার্নারের অন্তত বেসিকটুকু নিজের মধ্যে না থাকলে সে যা দেখবে তাতেই তার চোখ চকচক করবে। আমি খুজে খেটে ভাল প্রোডাক্ট/সার্ভিস বের করে নিতে না পারলে তো আমারই লস।

আমার কাছে প্রায় ফোন আসে – আউটসোর্সিংয়ের কাজ শেখার ব্যাপারে, তারা প্রত্যেকেই কমবেশি জানতে চায় আমি কি কি বিষয়ের উপর ট্রেনিং দেই, কি কি সুযোগ সুবিধা পাবে ইত্যাদি ইত্যাদি। তবে একটা প্রশ্ন আমাকে খুবই আহত করে যখন তাদের কেউ কেউ জানতে চায়, ভাই এই কোর্স করে সিউর ভাবে মাসে ৫০/৬০ হাজার টাকা ইনকাম করতে পারব তো ?? যথারীতি আমার উত্তর থাকে – ” হাঁ পারবেন তবে ঠিক ৩/৪ মাস পরই যে ৫০/৬০ হাজার ইনকাম করবেন সেই গ্যারান্টি দিতে পারব না। তবে আপনাকে আত্মবিশ্বাসী, পরিশ্রমী, সর্বোপরি ধৈর্যশীল হতে হবে। শুধু মাত্র কোর্সের উপর কখনই নির্ভর করা যাবে না, পাশাপাশি প্রচুর পড়াশোনা করতে হবে এবং ভালো ভালো রিসোর্স থেকে জানার আগ্রহ থাকতে হবে। এই প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটে শুধু কোর্স করলে হবে না, কাজ পাবার ক্ষেত্রে নিজের creativity কেও কাজে লাগাতে হবে। কখন সফল হবেন, এটা নির্ভর করছে কাজের বিষয়গুলো আপনি কতটুকু গভীর ভাবে জানেন।”

“There are two kinds of professionals in the world — the ones who just work hard, and the others who work hard and work smart. The greatest level of success comes to the people who find a balance between hard work and smart work. This is certainly true in the world of Internet marketing.” : Harsh Agrawal

এই সব শোনার পর ভর্তি প্রত্যাশী সেই ভদ্রলোক/ভদ্রমহিলা/ ছেলে/ মেয়ের মন খারাপ করে ফোনটা রেখে দেয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে দোষটা কার আমার নাকি ফোন কলের সেই মানুষগুলোর? না, দোষ আমাদের কারোই না, যে ব্যক্তি স্বল্প সময়ে মাসে ৫০/৬০ হাজার টাকা আয়ের স্বপ্ন লালন করে কাজ শিখতে আসছে, তার বিন্দুমাত্র দোষ নেই, দোষ হচ্ছে কতিপয় অসাধু প্রচারকারীর, যারা নিজেদের ট্রেইনিং ব্যবসার প্রসারের জন্য বলে আসছে – এই কোর্স করুন/ অমুক কোর্স করুন, আর কোর্স শেষ হবার পর নিশ্চিত ভাবে ৫০ হাজার থেকে লক্ষ টাকা ইনকাম করুন। কিংবা ২/১ জন সফলদের ইনকাম ইতিহাস দেখিয়ে প্রলোভন দেখাচ্ছে ,

“দেখেন ভাই এটা হচ্ছে মফা ভাইয়ের (কাল্পনিক নাম) ইনকাম পোর্টফলিও, উনি আমাদের এখানে কোর্স করে মাসে ১ লাখের উপর ইনকাম করছে ।”

আমি মানলাম মফা ভাই মাসে ১ লাখ ইনকাম করছে, ধরে নিলাম ৩/৪ মাস পর থেকেই করছে। তবে এটা কি ঠিক না ১/২ জন ৩/৪ মাসের কোর্স করেই ১ লাখ ইনকাম করছে বলেই সবাই তাই করবে !!! মফা ভাই যেটা করেছে অইটা exceptional বিষয়, আর আমার মত অনেকই বিশ্বাস করেন, ” Exceptional things, never be an example “

এই লেভেলের ইনকাম টা নির্ভর করছে ৪০ ভাগ যে শেখাচ্ছে তার উপর আর বাকি ৬০ ভাগ যে শিখছে তার উপর। আমি যদি ভালো মত আপনাকে শেখাতে না পারি তাহলে আপনার ৬০ ভাগ সম্পূর্ণ অন্ধকারে থাকবে। আমি সম্পূর্ণ জোর দিয়েই বলতে পারি আমার কোনও স্টুডেন্ট বলতে পারবে না যে আমি শেখানোর ব্যাপারে কোন প্রকার কার্পণ্য করি, শেখানোর সময় নিজের সবটুকু জ্ঞান দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করি। আমার দৃঢ় বিশ্বাস আপনারা আল্লাহর রহমতে ভালই বুঝতে পারেন। তবে কেন বাকি ৬০ ভাগের প্রতি যত্নবান হচ্ছেন না?

এই সব নানাবিধ কারনে অনেকে Training Center গুলোর উপর ব্যাপক হারে ক্ষেপে আছেন। ক্ষ্যাপার অবশ্যই কারন আছে, বাংলাদেশের Training Center গুলো যেভাবে চকচকে মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে স্টুডেন্ট ভর্তি করিয়ে নিচ্ছে, এটা উদ্বেগজনক ই বটে। অনেকই অনেক কষ্ট করে টাকা মেনেজ করে বিভিন্ন কোর্সে ভর্তি হচ্ছে effective কিছু শেখার আশায়, কিন্তু আশানুরুপ কিছুই পাচ্ছে না, বেসিক কিছু জিনিস হাতে ধরিয়ে দিয়ে কোর্স শেষ করে দিচ্ছে। আমার কথা হচ্ছে আপনি বিজ্ঞাপনে যা বলছেন, টা পুরন করার ক্ষমতা যদি না থাকে তাহলে কেন না জানা মানুষ গুলোর টাকা হজম করে নিচ্ছেন? কেন এই সেক্টরটার অপমান করছেন? এসব ধোঁকাবাজ দের জন্যই কিছু মাথা মোটা আঁতেল বলে থাকেন, আপনি ফ্রিল্যান্সিং, এফিলিয়েট করে হাগার হাগার ডলার ইনকাম করেন, তাইলে আপনার ট্রেইনিং করানোর দরকার কি? আঁতেল ভাই এবার আপনার জন্য কিছু বলছি। ধরুন, আপনি বড় মাপের একজন এস ই ও এক্সপার্ট। আপনার এলাকার বেকার দের একটা লিস্ট বানালেন, লিস্টে দেখা গেলো ৫০০ জন বেকারের নাম আসছে। এইবার আপনি উদ্যোগ নিলেন তাঁদের কে “এস ই ও” কাজ দিবেন। কাজ দেবার আগে তাদের কে কাজ শিখাতে হবে। আপনি তাঁদের কে বললেন, আপনারা বিভিন্ন ফ্রী সোর্স থেকে, ইউটিউব থেকে, গুগল ঘাঁটা ঘাঁটি কাজ শিখে নেন, এর জন্য ৬ মাস সময় দিলেন। ৬ মাস পর আপনি নিশ্চিত ভাবে দেখবেন, ফ্রী সোর্স থেকে ভালমানের কাজ শিখতে পেরছে মাত্র ২০ জন। আর ৪৮০ জনের কি হল ? তারা কেন পারল না? তারা কেন পারে নাই, এই জন্য তাঁদের দোষ দিয়ে লাভ নাই, যারা পারেন নাই তাঁদের কে কয়েকটা গ্রুপে ভাগ করি।

অনেকে শুরু করেছেন ঠিক ই কিন্তু বুঝে উঠতে পারছেন না কোথা থেকে শুরু করা উচিত

কেউ কেউ শিখার এক পর্যায় হতাশ হয়ে পরছেন, কারন তার মাথার মধ্যে অনেক প্রশ্ন অলরেডি ঘুরপাক খাচ্ছে, এইগুলার উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত সামনে এগুতে পারছেন না। ফেসবুকে আমাদের দেশীয় অনেক হেল্পিং গ্রুপ আছে, যেখান থেকে অনেক হেল্প পাওয়া যায়, কিন্তু দেখা যায় ১০ টা প্রশ্ন করলে ১ টার উত্তর পাওয়া যায়, জটিল কোন প্রশ্ন হলে উত্তর পাবার আশা বাদ দেন।

সব থেকে বড় ব্যাপার হোল ফ্রী সোর্স গুলোতে কোন টপিক ই গভীর ভাবে দেখানো হয় না, বড় একটা গ্যাপ থেকেই যায়। এই ব্যাপার টা অনেকেই ভালভাবে ফিল করেন। এই গ্যাপ টা পূরণের জন্য বিভিন্ন এক্সপার্ট দের কাছে ধর্না দেন, কোন লাভ হয় না। এক্সপার্ট রা এত কষ্ট করে স্কিল্ড হয়েছেন, কেন কিংবা কোন যুক্তিতে ফ্রী তে আপনাকে সব সিক্রেট দিয়ে দিবে? এইটা বুঝেও অনেকে আর এগোনোর আশা পান না। এই কথায় অনেকেই আমার সাথে একমত হবেন। আমি জানি না কিভাবে একজন মানুষ গুগল আর ইউটিউব থেকে শিখে প্রফেশনাল হতে পারে। নতুনদের এটা বলা ঠিক না যে গুগল/ইউটিউব থেকে শিখে ফেলতে পারবেন। এটা খুব ক্ষতিকর হবে তার জন্য। সবারই একজন কোচ/ মেন্টর/ পথ প্রদর্শকের প্রয়োজন হয় । তা নাহলে সহজে সামনের দিকে অগ্রসর হওয়া যায় না দ্রুত সময়ে ।

আবার অনেকেই আছেন একেবারে হাতে ধরে দেখিয়ে না দিলে সহজে বুঝতে পারেন না, কারন সবার মেধা এক না।

এই রকম আরও একাধিক কারনে মানুষ গুলো Training Center মুখি হয়। এই জন্যই Training Center এর মাধমে অথবা quality DVD materials এর মাধ্যমে কাওকে না কাওকে এগিয়ে আসতে হয় (আবার কিছু ডিভিডি প্রতারক থেকেও সাবধান থাকবেন। অনেকেই আছেন যারা মান্ধাতার আমলে তৈরি করা ডিভিডি বছরের পর বছর চালিয়ে দিচ্ছে)। অন্তত এমন একজন মেনটরের খোঁজে, যার হাত ধরে সঠিক রাস্তায় হাঁটবেন এবং আসল জিনিষ টা শিখতে পারবেন, যেখানে কোন গ্যাপ থাকবে না, যাতে লক্ষ্য পুরন টা অনেক সহজ হয়। আর এইটা কখনই আশা করা ঠিক না যে, তিনি আপনাকে ফ্রী তে সব শিখিয়ে দিবেন। যে শিখাচ্ছে তার সময়ের একটা দাম আছে। তাছাড়া ফ্রী তে কোন কিছু পেলে কেন জানি সেইটার মর্যাদা আমরা রাখতে পারি না।

আবার অনেকেই এই আশায় থাকেন, যার কাছ থেকে কাজ শিখছেন, সেই trainer ই আপনাকে কাজ দিতেই থাকবে, এই ব্যাপারে আমার কথা হচ্ছে- সে আপনাকে ইঙ্কাম করার জন্য কাজগুলো যত্নের সাথে শেখাবে, তারপর আপনাকে ইনকাম করার জন্য সঠিক পথগুলো দেখাবে এবং কিভাবে দ্রুত সফল হবেন সেই ব্যাপারে দিক নির্দেশনা দিবে, আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করার করার জন্য পাশে থাকবে। এরপর আপনার কাজ হবে, যা শিখলেন তার উপর আরও বেশি বেশি চর্চা করা, প্রতিদিন ৫/৬ ঘণ্টা সময় নিয়ে কাজ খোঁজা। আপনাকেই আপনার পায়ের নিচের মাটি তথা আপনার INCOME FOUNDATION STRONGLY BUILD UP করতে হবে। হাঁ,এটা ঠিক যে কাজ শেখার পাশাপাশি রিয়েল কিছু project এ প্রাকটিস করতে পারলে, কাজগুলো আরও ভালোভাবে শেখা যায়। কাজ শেখার ১ম ধাপেই আপনার একমাত্র ধ্যান থাকবে- learn. learn, learn, more and more learn.

কোর্স, ট্রেনিং হলো সিস্টেমেটিক্যালি প্রয়োজনীয় বিষয় গুলো ধারাবাহিক ভাবে কম সময়ে সঠিক ভাবে শেখার জন্য। নিজে নিজে শিখলে ভুল ইণ্টারপ্রিটিশন হতে পারে। এমন কোন প্রফেশনাল বিষয় নাই যারা জন্য প্রফেশনাল ট্রেনিং/কোর্স ডিগ্রি প্রয়োজন হয় নাই বা দরকার হয় না। সারা জীবন পাইলটের সাথে ভ্রমণ করলেও কোন ক্রূ প্রাইলট হবে না। আবার কো পাইলট হতে হলে আগে প্রফেশনাল ডিগ্রী কমপ্লিট করতে হবে। কোন নির্দিস্ট বিষয়ে প্রফেশানাল হতে হলে শুধু ঐ বিষয় শিখলে হয় না। কম্পিমেন্টরি ও সাপলিমেনটরি অনেক বিষয় শিখতে হয়। ইঞ্জিনিয়ারদের তাই সোশ্যাল সায়েন্সের অনেক কিছু পড়তে হয়। বিজনেস স্টাডি করলে ম্যাথ পড়তে হয়। অনেক উদাহরণ দিতে পারি। আবার সব প্রফেশনে বেশ কিছু লেভেল থাকে। কেউ ওয়ার্কার, কেউ এক্সেকিউটিব, কেউ ম্যানেজার আর কেউ ডিরেক্টর হয়। আজীবন ওয়ার্কার থাকলে হলে গুগল আর ইউটিউব থেকে শিখলে হবে। টপ লেভেল আর লং টার্ম ক্যারিয়ার গড়তে চাইলে নলেজ সেই রকম হতে হবে।

ডিজিটাল মার্কেটিং, এসইও, গ্রাফিক্স, প্রোগ্রামিং এই সব এতো ঠুনকো না যে কেউ কয়েকদিন কোর্স করে আর কিছু জিনিষ শিখে প্রফেশনাল হয়ে যাবে। সার্টিফিকেট কোর্স গুলো হয় দুই/তিন মাসের। কোন একটা নির্দিস্ট বিষয় ভিত্তিক। সার্টিফিকেট নলেজ মানুষের ওয়ার্কিং ক্যাপাসিটি তৈরি করে। এতে সে প্রফেশনাল হয়ে যায় না। প্রফেশনাল কোর্স হয় আরো দীর্ঘমেয়াদী। মূল বিষের একাডেমিক বিষয় গুলো থাকে।সাথে সাথে কমপ্লিমেন্টরি বিষয় গুলো। এতে করে তার নিজস্ব বিষয়ে তার গভীর নলেজ তৈরি হয়। কাজ টি সঠিক ভাবে করা ছাড়াও যে কোন সিটুয়েশনের জন্য সলিউশন ডিজাইন ও তা একজিকিউট করার ক্ষমতা তৈরি হয়।

যেখানে যে ব্যক্তিই কোন ধরনের ট্রেনিং বা কোর্স দিতে চায়, তাকে কটুক্তি শুনতে হয়ই। আর এর কারন হল কটুক্তি কারি ব্যক্তি হয়ত এর আগে কোন দিন প্রতারিত হয়েছিলেন। সেই হিসাবে তিনি বা তারা ধরেই নেন পুরা ইন্ডাস্ট্রিটাই ভুয়া। অথচ বাংলাদেশে সম্ভবত এমন কোন সেক্টর নাই যেখানে প্রতারক পাওয়া যাবেনা। আমার কাছে সবসময়েই মনে হয় মানুষ নিজের দোষেই প্রতারিত হয় ৯০% ক্ষেত্রে। কারন এটা তো ছিনতাই না! কেউ তো আমার টাকা ছিনায় নিচ্ছেনা, আমিই নিজের চরম অজ্ঞতার বশে না জেনে বুঝে যেখানে সেখানে টাকা দিয়ে দিচ্ছি, আর পরে গলা ফাটাচ্ছি সবাই খারাপ। আর, একজন চিল্লায় উঠলেই আরো কিছু মানুষ গলা ছেড়ে ডাকাডাকি করে উঠেন। এর পিছনের কারনগুলোও ইন্টেরেস্টিং। যেমনঃ – আগে থেকেই কাউকে হেয় করার ইচ্ছা থাকা – হুজুগে মন্তব্য করে ফেলা – কিছু মানুষ নেগেটিভ মাইন্ডসেট দেখায় সব জায়গায় -আমরা নিজেরা যেটা এক্সিকিউট করতে পারিনা, সেটা আরেকজন করে ফেললে সেটাকে সহজে গ্রহন করতে না পারা। এই সব শোরগোলের ভিতরে যেই মানুষটার আসলেই ট্রেনিং দরকার, সে পড়ে যায় চরম দ্বিধা-দ্বন্দে। ক্ষতি আর কারোই হয়না, শুধু ক্ষতি হয় যে শিখতে চাচ্ছে তার।

আজকাল আমাদের মধ্যে একটা ধারনা বদ্ধমূল হয়ে গিয়েছে, আউটসোর্সিংয়ের কাজ মানে upwok, fiverr, people per hour, freelancer এর কাজ করা। এই তখাকথিত ধারনা থেকেই কাজ শিখে এই কয়েকটা মার্কেট প্লেসে প্রোফাইল ক্রিয়েট করে ১০/১২ টা বিড করেন, ৯৯% ভাগই কোন interview রিপ্লায় না পেয়ে ফ্রিল্যান্সিং বা আউটসোর্সিংয়ের জগৎ থেকে হতাশ হয়ে GOOD BYE বলেন। কিন্তু এমনটা কেন হবে? আপনাকে বুঝতে হবে আপনি শুধু একা বিড করছেন না, এইটা প্রতিযোগীটামূলক মার্কেট, আপনার প্রথমেই বোঝা উঠিত- ধৈর্যশীল,আত্মবিশ্বাসী, পরিশ্রমী না হলে এই সেক্টর আপনার জন্য না। সফলতা অর্জনের জন্য শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবে না, তার জন্য পরিশ্রম করতে হবে, স্বপ্ন কে লালন করতে হবে। স্বপ্ন পূরণের জন্য পরিশ্রমের পাশাপাশি আল্লাহর কাছেও চাইতে হবে।

আউটসোর্সিংয়ের কাজের জন্য শুধুমাত্র upwok, fiverr, people per hour, freelancer উপর নির্ভরতা কমাতে হবে। আজাকাল আউটসোর্সিংয়ের কাজের জন্য আপনারা SEO, SMM, Video Marketing, Web design, Graphic Design, article writing ইত্যাদি বিভিন্ন কাজ শিখছেন। এই কাজ গুলো কি শুধুই upwok, fiverr, people per hour, freelancer এ পাওয়া যায়। একবার কি আমাদের লোকাল মার্কেট কে যাচাই করে দেখেছেন? দেশীয় অনলাইন জব পোর্টাল গুলোতে (bdjobs, prothom-alo jobs, etc.) সার্চ করে দেখেন, এসব কাজের জন্য ভুঁড়ি ভুঁড়ি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। যেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে আপনার কাজের দক্ষতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। এখন বলবেন, ” ভাই অনেক কাজ করায় কিন্তু বেতন খুব অল্প” । আমার কথা হচ্ছে আমরা কবে আমাদের নাক উঁচা মনোভাব পরিবর্তন করব? এসব জায়গায় কাজ করে অন্তত নিজেকে ঝালাই তো করে নিতে পারবেন।

পরিশ্রম না করে বা কম পরিশ্রমে অধিক আয়, এসবই প্রতারণা। যখন কোন একজন দেশের প্রচলিত ব্যবস্থায় আমার যোগ্যতার চেয়ে আমাকে বেশী দিতে চাই, সেটা নির্ঘাত মিথ্যা আর প্রতারণায় ভরা হবে, এই ছোট্ট বিষয়টা আমরা কেন বুঝিনা? আসলে আমরা অলস আর লোভী, তাই এই প্রতারকদের সহজ টার্গেটও আমরা। সুতরাং ইউটিউব কিংবা ফেসবুকে দেখা চকচকে বিজ্ঞাপনে প্রলোভিত হবেন না।

আপনি যেহেতু কাজ জানেন তাহলে কেন শুধু মার্কেট প্লেসের ইঙ্কামের আশায় আছেন? যে সময়টুকু তে আপনি কাজ খুঁজতে খুঁজতে হতাশ হচ্ছেন, সেই সময় গুলোতে এই কাজ গুলো করে ফেল্লেই কিন্তু আপনি অনেক এগিয়ে যাবেন, অন্যদিকে নিজের দক্ষতাও অনেক বাড়বে, যা আপনাকে মার্কেট প্লেসগুলোতে কাজ পেতে অনেক হেল্প করবে। বিড করার সময় কভার লেটারে আপনার তৈরি করা সাইট গুলো রেফারেন্স হিসেবে দেখাতে পারবেন। এতে মার্কেট প্লেসে কাজ পাবার সম্ভাবনা ৮০ ভাগ বেড়ে যাবে। পোর্টফলিও যত ভারী হবে কাজও তত দ্রুত পাবেন, আপনার আত্মবিশ্বাস ও অনেক বেড়ে যাবে। আর মার্কেটপ্লেসে কাজে এপ্লাই করার সময় ছোট ছোট কাজগুলো আগে টার্গেট করুন এবং যে কাজ গুলো আপনি ভালমত করতে পারবেন, যত অল্প টাকার কাজই হোক না, আগে নিজের ভিত মজবুত করুন।

আমি আবারও বলছি প্রপার স্কিল ডেভেলপ না করে কাজে নামলে ফলাফল হবে শুন্য (০)। আর সর্বোপরি পরিশ্রমী, অক্লান্ত চেষ্টা এবং ইনকামের ব্যাপারে passionate হতে হবে। Most Importantly, রাতারাতি বড়লোক হবার দিবা স্বপ্ন পরিহার করতে হবে।

একটা কথা সবসময় মনে রাখবেন, “slow and steady wins the race”. While doing anything we must not forget that nothing worthwhile can be achieved in a single day or overnight and that every achievement takes time. Patient and persistent effort will beat the labors of a spasmodic (irregular) Hercules. একজন সফল ফ্রীলেন্সার হবার জন্য প্রতিদিন নিজেকে অল্প অল্প করে গড়ে তুলন। ১মাস টানা কাজ শিখলেন তারপর ৬ মাস বসে থাকলেন, ফলাফল কিন্ত জিরো (০)। একটা ব্যাপার একটু ভেবে দেখুন- আপনি লেখাপড়া কেন করছেন? সেই ক্লাস ১ থেকে শুরু করে অনার্স/ মাস্টার্স পর্যন্ত পড়াশোনা করছেন। প্রায় ২০ বছর একটানা লেখাপড়া শেষ করে একটা ভালো চাকুরীর আশা করছেন। চাকুরীটা পেয়েও গেলেন- বেতন :২০,০০০ টাকা। তাহলে তো বলতে হয়, আমি যে দুটো উক্তির কথা বললাম, দুইটাই মেনে নিয়েছেন, ১ম I never dreamed about success. I worked for it– ভালো জব আপনার স্বপ্ন- তাই সেটা অর্জনের জন্য ২০ বছরের পরিশ্রম এবং স্কিল ডেভেলাপ । ২য় “slow and steady wins the race”– ২০ টা বছর একটা ভালো জবের জন্য নিজেকে ধীরে ধীরে গড়ে তুলেছেন। তাহলে কিভাবে ভাবলেন আউটসোর্সিংয়ের কাজ ২/৩ মাসে শিখে মাসে ৫০/৬০ হাজার টাকা ইনকাম করবেন?? এইটা তো ম্যাজিক না। অনলাইন আউটসোর্সিংয়ের কাজ করতে গেলে নির্দিষ্ট কিছু বিষয়ের উপর আপনাকে স্কিল ডেভেলাপ করতেই হবে, পর্যাপ্ত টাইম বিনিয়োগ করতে হবে। সেটা অবশ্যই ২০ বছর না । ১ থেকে ২ বছরের নিবিড় এবং অক্লান্ত পরিশ্রমে আপনি কিন্তু ২০ বছর কষ্ট করে যে টাকা ইনকাম করেছেন, তার থেকে ডাবল ইনকাম করতে পারবেন। এইগুলা আপনার কাছে নিছক কল্পনা মনে হতে পারে। But this is the real Truth.

মজার ব্যাপার হচ্ছে আমরা হাজার হাজার ডলার ইনকামের স্বপ্ন দেখি কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের জন্য বিন্দুমাত্র চেষ্টা করতে নারাজ। আপনার স্বপ্ন বাস্তবায়নের সবচেয়ে বড় অন্তরায় আপনি নিজে। কারণ, বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়। ৯৯% লোক তাদের লক্ষে পৌছতে পারে না, কারণ তারা যাত্রা শুরুই করে না। ধরেন, আপনি পাহাড়ের চূড়ায় উঠতে চান। অন্য কেউ উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে গেছে বা মাঝপথে কুকুরে কামড়িয়ে জ্বলাতঙ্ক বাধিয়ে দিয়েছে। সেই ভয় যদি আপনাকে ঘায়েল করে ফেলে তাইলে আপনার লক্ষ্য হওয়া উচিত, পাহাড়ের তলায় ঝালমুড়ি বিক্রি করা। ব্যপারটা এমন না যে, আপনি এক দৌড়ে চূড়ায় উঠে যাবেন বরং চূড়াটা আপনার লংটার্ম গোল কিন্তু শর্টটার্ম লক্ষ্য হবে পরবর্তী দশ হাত। এই দশ হাত উঠার পর নেক্সট টার্গেট পরবর্তী পনেরো হাত। তারপর আপনার অভিজ্ঞতা অনুযায়ী উপরে উঠার স্ট্রাটেজি বা এপ্রোচ এডজাস্ট করবেন। এমনও হতে পারে, মাঝপথে এসে আপনার বাথরুম চেপে গেলো, তখন নিচে নেমে বদনা ভর্তি পানি বা টয়লেট টিস্যু নিয়ে যেতে হলো। এইরকম একাধিক বার আপনাকে আবার নতুন করে শুরু করতে হবে। খুবই কমই কাজ আপনি এক চান্সে ফিনিশ করে ফেলবেন।

আপনি যতোটা মরিয়া হয়ে ফেইসবুক চালান, ততোটা মরিয়া হয়ে কাজ করলে, আপনার লক্ষের অর্ধেক রাস্তা পার হয়ে যেতেন অনেক আগেই। আর দেরী নয়, জাস্ট শুরু করে দেন। পরাজিত হবার ভয়ে আপনি যদি মাঠে খেলতেই না নামেন তাইলে কোনোদিন জিততে পারবেন না। জিততে হলে আপনাকে মাঠে নামতেই হবে। হোচট খাইতেই হবে। আপনার পায়ে চোট লাগলে সেটা কতক্ষণ থাকবে। ১০-২০ মিনিট, ১-২ ঘন্টা, ১-২দিন, ৩-৪ সপ্তাহ নচেৎ ১ বছর। তারপর কিন্তু ঠিকই ব্যথা নাই হয়ে যাবে, ক্ষত শুকিয়ে যাবে, দাগ মুছে যাবে। এই চোট নিয়ে আপনি সারা জীবন বসে থাকতে পারেন বা মাঠে নেমে আবার চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন। সাকসেসফুল হবার একটাই কারণ হচ্ছে চেষ্টা। এক বা দুইবার নয় বরং হাজার হাজার বার চেষ্টা। সফল না হওয়া পর্যন্ত চেষ্টা। একেবারে শেষ দেখে নেবার চেষ্টা। যতবার ব্যর্থতা আসবে ততবার সেই ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে আবার শুরু করার চেষ্টা। এক বা দুইবার নয় হাজার হাজার বার ট্রাই করার পর যিনি ইলেকট্রিক বাল্ব আবিস্কার করছেন, তিনি বলেছেন, “I have not failed. I’ve just found 10,000 ways that won’t work.”

সুতরাং আর দেরি নই। স্বপ্ন পূরণের চেষ্টা আজ থেকেই শুরু হউক। কারও মিথ্যা গ্যারান্টি তে না গলে এগিয়ে যান নিজ উদ্যোগে।

প্রথমে ১টাকা ইনকাম ( উদাহরন হিসেবে বলা হয়েছে ) করুন, তারপর চিন্তা করুন এটাকে কিভাবে ডাবল করা যায়, যখন দেখবেন ডাবল হচ্ছে না, তাহলে অবশ্যই ধরে নিতে হবে আপনার জানার ভেতর কোথাও কোনও ঘাটতি আছে, সেটা আগে পুরন করুন, তারপর আবার চেষ্টা করুন, দেখবেন আপনি সফল হবেন ইনশা-আল্লাহ। এভাবে ধীরে ধীরে নিজেকে তৈরি করতে থাকুন। দেখবেন আপনার ইঙ্কামের সেই ছোট্ট মাটির ব্যাঙ্কটি এক সময় Dutch-Bangla Bank হয়ে গেছে। আল্লাহ মানুষ কে অনেক ক্ষমতা দিয়েছেন। পারব না , আমার দ্বারা হবে না এসব কথা ভুলেও মনে করবেন না। নিজের সর্বচ্চো চেষ্টাটা দিন, ইনশাল্লাহ সফল আপনি হবেনই। জাস্ট এই ১ থেকে ২ টা বছর পরিশ্রম করুন। আজ এই পর্যন্তই । সবাই ভালো থাকুন।


IT সর্ম্পকিত যে কোন তথ্য জানতে যোগাযোগ করুন...

Zahidul Islam Zihad

Software Engineer (JBRSOFT)

BSC in CSE (DIU)

Diploma in CMT (PPI)

+8801744132123